
এক মৌসুমে ১২ গোল ও ১৬ অ্যাসিস্ট, মোট ২৮ গোলের সঙ্গে যুক্ত, অথচ চোটের কারণে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়া। বার্সার উদীয়মান তারকা ফের্মিন এ মৌসুমে নিশ্চয়ই একরাশ জেদ নিয়ে আছেন। নিজেকে প্রমাণ করতে চান, আর সর্বগুণের পরিচয় ইতিমধ্যে দিয়েওছেন।

স্পেন ক্রোয়েশিয়াকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর আস পত্রিকা লেখে, ফের্মিনের কৌশল সত্যিই সর্বাত্মক। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডে নেমে তিনি রক্ষণে যোগ দিতে ও মিডফিল্ড গুছাতে পারেন। সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে বড় এলাকা জুড়ে দৌড়াতে পারেন। অ্যাটাকিং মিডফিল্ডে দৃষ্টি ও ফুটওয়ার্ক দিয়ে পাস ও ব্রেক করতে পারেন। স্ট্রাইকার হয়েও শট করে গোল করতে পারেন। তিনি সব পারেন।

স্পেন বনাম ক্রোয়েশিয়ার সেই নেশনস লিগ ম্যাচের কথাই ধরা যাক। ফের্মিন সক্রিয় ছিলেন। বারবার উচ্চমানের শট করেন, পোস্টেও মারেন। সতীর্থরা যে গোলে খেলা খুলে দেয়, সেটাও আসে ফের্মিনের রান থেকে। ফের্মিনই ছিলেন ম্যাচের কেন্দ্রের মানুষ।

আসলে ফের্মিন সবসময়ই পরিসংখ্যান তৈরি করেন। বার্সার প্রথম দলে এই ৪ মৌসুমে তাঁর হিসাব ৩৬ গোল ও ৩০ অ্যাসিস্ট, মোট ৬৬ গোলের সঙ্গে যুক্ত। গড়ে প্রতি ১২৪ মিনিটে বার্সার জন্য ১টি গোল তৈরি করেন। বিশ্ব ফুটবলে এমন মিডফিল্ড তারকা হাতে গোনা।
আরও ভয় ধরানোর মতো বিষয়, ফের্মিন এখনও বদলে যাচ্ছেন। তাঁর অবস্থান ক্রমাগত এগোতে পারে। ধীরে ধীরে তিনি বার্সা ও স্পেন দলের ভবিষ্যৎ আক্রমণের কেন্দ্র হয়ে উঠছেন।
স্পেন জাতীয় দলে ফের্মিন নিখুঁত নিয়মিত না হলেও তাঁর নিজের জন্য, আর তাঁর ক্লাব বার্সার জন্য কোনো সমস্যা নেই। কারণ স্পেন দল ফের্মিনকে যে এগিয়ে খেলানোর ধরন দিয়েছে, বার্সা তা দেখে নিতে পারে।
এখন বার্সার অধিনায়ক রাফিনিয়া চোটে আছেন। বার্সা ফের্মিনকে স্ট্রাইকার হিসেবে ভাবার কথা ভাবতে পারে, ভঙ্গ ভাঙার অস্ত্র হিসেবে। এতে বার্সার আক্রমণ আরও সমৃদ্ধ, আরও বহুমাত্রিক হবে।
আমার মনে হয় ফের্মিনের কৌশল সত্যিই সর্বাত্মক, মাঠে লড়াইয়ের জোরও ভালো, বার্সার সতীর্থদের সঙ্গে বোঝাপড়াও অনেক। আগে তাঁর ঘাটতি ছিল শুধু সুযোগের। এখন সুযোগও আছে। রাফিনিয়া দীর্ঘদিন দূরে থাকলে ফের্মিনকে দিয়ে দুর্গ ভেঙে গোল করানো সত্যিই একটি ভালো পথ।
আপনার কি মনে হয় বার্সার উচিত ফের্মিনকে আরও বড় কৌশলগত স্বাধীনতা দেওয়া? মন্তব্যে লিখুন।